নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নারায়ণগঞ্জে তিতাস গ্যাসের পাইপ লিকেজ থেকে দুর্ঘটনায় অগ্নিদগদ্ধ আট জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।এই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রিকশাচালক হান্নান (৫০) মারা গেছেন।
নারায়ণগঞ্জে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। ।রোববার (২ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি ২ নম্বর চেয়ারম্যান অফিসের পাশে একটি টিনশেড বাসায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এলাকায় গ্যাসের লিকেজ সারানোর অজুহাতে অবৈধ ব্যবহারকারীদের দেদারসে সংযোগ দেওয়া হয়। লিকেজ সারানোর কাজ তিতাস গ্যাসের কর্মচারীদের করার কথা থাকলেও বেশিরভাগ সময়ে লুঙ্গি পার্টির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এ কাজগুলো করানো হয়। নারায়ণগঞ্জ অফিসের ব্যবস্থাপক মোস্তাক মাসুদ মোহাম্মদ ইমরান এই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার। তার নেতৃত্বে এই লিকেজ সারানোর কাজ
করার কথা থাকলেও তিতাস গ্যাসের জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সদ্য দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হারুন শেখের ভাগিনা আলমগীরকে দিয়ে এই কাজটি করানো হয়েছে। আলমগীর, শামীম সহ তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জের লুঙ্গি পার্টি চক্রের সদস্যরা নানা সময়ে লিকেজ সারানোর অজুহাতে অবৈধ সংযোগ দিয়ে থাকে। এই ঘটনা এসব অফিসে বলতে গেলে ওপেন সিক্রেট। তারপরেও ঊর্ধ্বতনা কর্তৃপক্ষ তাদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। দিনের পর দিন তিতাস গ্যাসে চলছে এই ধরনের পুকুর চুরি। মাঝেমধ্যে দু একটি লোক দেখানো ব্যবস্থা নিয়েই দায় সারছে তিতাস গ্যাস।
এ বিষয়ে কথা বললে নারায়ণগঞ্জের তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক মোস্তাক মাসুদ মোহাম্মদ ইমরান বলেন, যে বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ওই বাড়িতে অবৈধ গ্যাসের সংযোগ ছিল, তবে লুঙ্গি পার্টির সদস্যদের বিষয়ে আমার ধারণা নেই টিমের সাথে মাটি কাটা ও ওয়েল্ডিং করার জন্য লেবার যায়।
তবে লুঙ্গি পার্টির শামীম ও আলমগীর এর সাথে তিতাস গ্যাস কর্মকর্তাদের সখ্যতার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে।
Leave a Reply