বিশেষ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন নোয়াগা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ব্রজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস এর মেয়ে শ্রী মতি শিপ্রা রানী বিশ্বাস স্বামী শ্রী প্রদিপ চন্দ্র মল্লিক গত ১০/০৮/২০০৫ ইং তারিখ সোনারগাঁও সাব রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে একটি দলিল রেজিস্ট্রি করেন যাহার নং ৬৫৮৬ জমির পরিমান ১৫ শতাংশ। জমি ক্রেতা হলেন শ্রী মতি শিপ্রা রানী বিশ্বাস এবং জমি বিক্রেতা হলেন হরি সাধন বিশ্বাস (৪৭), শ্রী খোকন বিশ্বাস (৪৫) ও শ্রী দীপু বিশ্বাস উভয় পিতা মৃত ব্রজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস। গোবিন্দপুর মৌজার সিএস ও এস এ দাগ নং ৩৪৯ আর এস ৬২৮ সূত্রে মতে জানা গেছে জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতারা একই বাবার সন্তান। ২০০৫ সালে তিন ভাই মিলে বোনের কাছে ১৫ শতাংশ জমি বিক্রি করে। শীপ্রা রানী তার স্বামীর বাড়িতে থাকেন। শ্রীমতি শিপ্রা রাণীর স্বামী একজন প্যারালাইসিস রোগী বলে জমি দেখাশোনা করতে আসা-যাওয়া কম ছিলো। শিপ্রা রানীর স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাবেন এমন উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয় তাই জমি বিক্রি করার উদ্যোগ নেয় এবং গত ১৪/০৯/২০২৩ ইং তারিখ মোঃ মামুন মিয়া পিতা মোঃ সিরাজুল হক ভূইয়ার নিকট আম মোক্তার নামা বায়না কৃত দলিল হয়।যাহার দলিল নং ১৬৬২১, জমি বায়না রেজিস্টির পরে জমিতে সাইনবোর্ড লাগান মামুন। একদল সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যদের সাথে নিয়ে গভীর রাতে সাইনবোর্ড ফেলে দেয় শ্রী হরিসাধন চন্দ্র বিশ্বাস,শ্রী সুবোধ বিশ্বাস। পরবর্তীতে সাইনবোর্ড ফেলে দেয়ার বিষয়টি এলাকাবাসির নিকট জানতে চাহিলে তারা বলেন হয়তো শীপ্রা রানী বিশ্বাসের তিন ভাই একাজটি করেছেন।
শ্রীমতি শিপ্রা রানী বিশ্বাস তার ভাইদের কর্তৃিক জমি জালজালিয়াতি করে তাদের নামে নিয়েছেন বলে বিষয়টি জানতে চাহিলে প্রতারক তিন ভাই তাকে মারধর করার চেষ্টা চালায় বলে জানান শ্রীমতি শিপ্রা রানী । ভাইদের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড দেখে ভয়ে জমির কাছ থেকে চলে যান তিনি । পরবর্তীতে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সোনারগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন হরিসাধনগংদের নামে একটি ভুয়া দলিল হয়েছে যাহার দলিল নং ১৫৫৫৩।
শ্রীমতি শিপ্রা রানী দিশেহারা হয়ে গত ৩০/৮/ ২০২৩ ইং তারিখ ভূমিদস্যু বন্ধের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন মামলা নম্বর ২২৮/২০২৩ উক্ত মামলাটি বর্তমানে সিআইডি পুলিশ তদন্তে চলমান রয়েছে বলে জানা যায়।
অন্যদিকে জমি জোরপূর্বক দখল করাকে কেন্দ্র করে গত ১৩-১০ ২০২৩ ইং তারিখ সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শ্রীমতি শিপ্রা রানী বিশ্বাস। উক্ত অভিযোগটি সঠিক তদন্তের স্বার্থে দায়িত্ব দেয় তালতলা পুলিশ ফাঁড়িকে। পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় সরজমিনে গত ১৪-১০ ২০২৩ ইং তারিখ বেলা ১,৩০ মিনিটের সময় ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন এসআই জয়ন্ত বিশ্বাস। উপস্থিত এলাকাবাসীর জবানবন্দি ও বাদী বিবাদী সহ উভয় পক্ষের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করেন।
এলাকাবাসী গণমাধ্যম কর্মীদের জানান ২০০৫ সালে শ্রীমতি শিপ্রা রাণী তার তিন ভাইদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ জমি কিনে নিয়েছেন বলে আমরা জানি। তবে আমাদের জানা মতে শ্রীমতি শিপ্রা রানী তার ভাইদের কাছে পুনরায় জমি বিক্রি করেননি। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি সোনারগাঁও এলাকায় দলিল লেখকরা ভুয়া দলিল করতে অস্বীকৃতি জানালে তার মধ্যে একজন অসাধু দলিল লেখক মোহসিনের সহযোগিতায় হরিসাধন বিশ্বাস কিশোরগঞ্জ থেকে ভাড়া করা দলিল লেখন মামুন সরকার যিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অন্তর্গত যার সনদ নং ৯১কে এনে তাকে দিয়ে একটি জাল দলিল সম্পন্ন করেন। এই ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রি করার ক্ষেত্রে সোনারগাঁয়ের অসাধু দলিল লেখক মহসিন জড়িত রয়েছে বলে জানানয় শীপ্রা রানি ও এলাবাসী। দলিল লেখক মহসিন শুধু এই ভুয়া দলিলটিই রেজিস্ট্রি করেননি নোয়াগাঁও ইউনিয়নসহ একাধিক ইউনিয়নে ভুয়া ও জাল জালিয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোনারগাঁওয়ে সাবরেজিস্টার আ ফ ম বজলুর রহমান মন্ডল দীর্ঘ দিন যাবত একটা ভূমিদস্যু চক্রের মূল হোতা মোঃ গোলজার ও দলিল লেখক মোঃ মহসিন ভূইয়ার সাথে মিলিত হয়ে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে একজনের জমি অন্য এক জনকে দার করিয়ে ভূয়া দলিল সম্পাদন করে আসছে. এই সাবরেজিস্টার ফজলুর রহমান মন্ড ভূমি দস্যু গোলজার ও দলিল লেখক মহসিনের বিরুদ্ধে একাদিক মামলা সি আই ডি তদন্ত রিপোর্টে প্রমানিত তার প্রতিবেদেন দেওয়া হয়েছে।
অনেক জাল জালিয়াতি দলিল সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান এবং সিআইডি তদন্ত চলমান রয়েছে। স্বরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় নোয়াগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল আলম বড় অংকের উৎকোচ নিয়ে ভূমিদস্যুদের ভুয়া ওয়ারিশ সার্টিফিকেট প্রদান করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
Leave a Reply