বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৫ নং ওয়ার্ডের তুষার ধারায় অবস্থিত মহিউদ্দিন বাদল কলেজিয়েট স্কুল। উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির কে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন উক্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোসাম্মাৎ জেসমিন আহমেদ।
সূত্রমতে জানা গেছে প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির ভুয়া ভাউচারসহ নানা অনিয়ম এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুর্নীতির বিষয়গুলো ম্যানেজিং কমিটির দৃষ্টিগোচরে আসলে কর্তৃপক্ষ ছায়া তদন্ত শুরু করেন। একপর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন উক্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোসাম্মদ জেসমিন আহম্মেদ । স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ কর্মীদের জানানো হয় আমাদের স্কুলটি এমপিও ভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষক-ও কর্মচারীর কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেয়। ২০১৭ সাল হইতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্কুলের আয় ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলে তিনি কোন হিসাব দিতে পারেননাই। আমাদের ম্যানেজিং কমিটির কাছে কাছে হিসাব আছে বলে তিনি নানা অজুহাতের মধ্যে দিয়ে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ২০১৭ সাল হইতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৫৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যেমন সভাপতির অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে অবৈধ উপায়ে উত্তোলন করেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত কোনো নিয়ম কানুন না মেনে ভাউচারের মাধ্যমে হিসাব পত্র সংরক্ষণ করেন। তবে কোন ভাউচারে প্রধান শিক্ষকের ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর নাই। যাহা ব্যয় অনুমোদন হয় নাই, স্কুলের খরচের খাতের যথাযথ পন্থা অবলম্বন না করা, বিক্রেতার সঠিক ভাউচারে স্বাক্ষর না থাকা, নিজ ইচ্ছা মত হিসেবের অংক বসিয়ে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করা, অনেকগুলো বেতন বিবরণীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর না নিয়ে বেতন প্রদান করা হয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্বাক্ষর না নেয়া যাহা অনুমোদন বিহীন বলে বিবেচিত। প্রধান শিক্ষক ওই পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রমাণিত হয় যাহার পরিমান প্রায় ৮০ লক্ষ। ১৮/ ৩ /২০২০ইং থেকে সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং পর্যন্ত কোভিড ১৯ এর কারণে স্কুল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ভাউচারে ব্যয় দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। স্কুলের কার্যক্রম বন্ধের পরও এমনটি কাজ করেছেন তিনি। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন আহমেদ বাদল এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানের ব্যয় হয় ৭০ হাজার ৪২৫ টাকা। সেখানে সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছেন উক্ত স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীরা, কিন্তু দুর্নিতিবাজ প্রধান শিঁক্ষক স্কুলের তহবিল থেকে মোটা অংকের খরচ দেখান। ২০১৯ সাল ও ২০২৩ সালের শিক্ষা সফরের টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে, কিন্তু স্কুলের তহবিল থেকে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অনেক টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে সরেজমিনে স্কুলে যেয়ে সিকিউরিটি গার্ড ও স্কুলের ভুক্তভোগী শিক্ষকরা স্বীকার করেন যে আমাদের স্কুলটি এমপিও ভুক্ত করার ক্ষেত্রে থানা শিক্ষা অফিসারসহ মন্ত্রণালয়ে ঘুষ দিতে হবে বলে এমন কথা বলে আমাদের সকলের কাছ থেকে ৩ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন সত্য। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি চৌতুরতার সাথে এড়িয়ে যেয়ে বলেন আমি টাকা আত্মসাৎ করি নাই তবে হিসেবে একটু গরমিল আছে তা সত্য। এবিষয়ে শ্যামপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানায় মহিউদ্দিন বাদল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবিরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন ভ্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমি শুনেছি। তবে কোন আইনে কিসের ভিত্তিতে তা আমার জানা নেই।
Leave a Reply