নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার কৃষি ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দালাল খালেক বয়াতি ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে।
জাজিরা উপজেলার কৃষি ব্যাংকের শাখা থেকে প্রতিনিয়ত জাল-জালিয়াতি করে কাগজপত্র জমা দিয়ে মিথ্যা হলফ নামার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ার করে খাচ্ছে এই দালাল চক্রটি।
এই চক্রের মূল হোতা পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানাধীন পশ্চিম নাওডোবা চান্দু মিনা কান্দির বাসিন্দা মৃত আহমেদ বয়াতির পুত্র মোঃ আব্দুল খালেক বয়াতি ।
তিনি জাজিরা উপজেলার সকল মানুষের কাছে কৃষি ব্যাংকের দালাল হিসেবে পরিচিত।
জাজিরা এলাকার কোন কৃষক যদি ঋণ উত্তোলন করার আগ্রহ প্রকাশ করে সেখানে খালেক বয়াতি হাজির হন। কৃষি ঋণ করতে কোন কাগজপত্র যদি না থাকে তাহলে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তা ব্যাংকে জমা দিয়ে ঋণ উত্তোলন করা সহ সকল ধরনের সহযোগিতা করে থাকে আব্দুল খালেক বয়াতি।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুদিন পূর্বে পশ্চিম নাওডোবা কেফাতুল্লাহ হাওলাদার কান্দির মোঃ রাজু মাতবর পিতা দলিল মাদবর এর নামে কৃষি ব্যাংকের ঋণ উত্তোলন করা হয়। ঐ ঋণ উত্তোলন করার সময় দলিল মাদবর কে কাগজপত্রে মৃত দেখানো হয়েছে কিন্তু দলিল মাদবর জীবিত আছেন তিনি নিয়মিত নাওডোবা বাজারে আসে বাজার করতে, অন্যদিকে বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা এই বিষয়টি জানতে পারে। স্থানীয়দের প্রশ্ন মৃত ব্যক্তি কিভাবে বাজার করতে আসেন? এগুলো সব কৃষি ব্যাংকের দালাল খালেক বয়াতির কাজ। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে এবং ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স,মৃত্যুর সনদ, কবরস্থানের দাফন করার রশিদ-সহ যাবতীয় ভুয়া কাগজ তৈরি করার মূল হোতা হলেন খালেক বয়াতি।
জাজিরা কৃষি ব্যাংকের দেয়া ঋণ গুলো তদন্ত করে দেখলে দেখা যাবে অধিকাংশ জাল-জালিয়াতি করে ঋণ উত্তোলন করে দিয়েছে এই প্রতারক খালেক বয়াতি।
কয়েকদিন আগে মোহাম্মদ আলতাফ তস্তার এর নামে এক লক্ষ টাকার ঋণ পাশ করে দিয়েছে খালেক বয়াতি। ওই ঋণ আবেদনের যে কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে তার মধ্যে আলতাফ তস্তারের পিতা আহাম্মদ তস্তারের মৃত্যু সার্টিফিকেট তৈরি করে জমা দেয়া হয়। অন্যদিকে শহিদুল মিনার নামে (১০) লক্ষ টাকার ঋণ এর আবেদন করা হয় যা সম্পূর্ণ ভুয়া কাগজপত্র দ্বারা তৈরি ।
এছাড়াও মোঃ আব্দুল সাত্তার বেপারী পিতা আশেদ বেপারী তার নামেও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জাজিরা কৃষি ব্যাংক হইতে ঋণ উত্তোলন করে দেয় আব্দুল খালেক বয়াতি। অন্যদিকে আরো দেখা যায় পশ্চিম নাওডোবার মোঃ আব্দুল সালাম হাওলাদার পিতা-মৃত আব্দুল কাদির হাওলাদার এর নামে ঋণ উত্তোলন করার ক্ষেত্রেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।
জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়ন ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায় জাজিরা কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়া নিজে তৈরি করেছেন একটি দালাল চক্র।
তাদের কাজ ঋণ উত্তোলনের জন্য যে সকল কাগজপত্র জমা দিতে হয় সেগুলো দালাল চক্ররা নিজেরাই তৈরি করেন। ঋণ প্রস্তাবের ফাইল কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের হাতে জমা দিলেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সকল সহযোগিতা করে জাজিরা কৃষি ব্যাংক এর ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়া নিজেই।
উল্লেখিত বিষয়ে জাজিরা কৃষি ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা মোহাম্মদ আলতাফ তস্তার পিতা আহমেদ তস্তার স্থায়ী ঠিকানা পশ্চিম নাওডোবা গফুর দস্তারকান্দি পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, জাজিরা কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কাগজপত্রে আমার জীবিত বাবাকে মৃত দেখানো হয়েছে এবং মৃত সার্টিফিকেট সহ সকল কাগজপত্র তৈরি করে জমা দিয়েছে খালেক বয়াতি। এবং এক লক্ষ টাকার ঋণ উত্তোলন বাবদ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে ব্যাংক ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়া ও দালাল খালেক বয়াতি কে। তবে আমি কিছু বুঝতে পারি আর নাই পারি এটুকু বুঝেছি এই চক্র শুভঙ্করের ফাঁকি কেও হার মানিয়েছে।
এ বিষয়ে জাজিরা কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়ার সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান, যাদেরকে কৃষি ব্যাংক হইতে ঋণ প্রদান করা হয় প্রত্যেক গ্রাহকের কৃষি ব্যাংক এ ব্যাংক একাউন্ট আছে এবং ওই অ্যাকাউন্টেই ঋণের টাকা হস্তান্তর করা হয়। দালালরা কোন গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষের টাকা গ্রহণ করে অথবা ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করেন এমন বিষয় সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। তবে শহিদুল মিনার নামে খালেক বয়াতি মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকার একটি ঋণ প্রস্তাব হয়েছিল উক্ত বিষয়ে অভিযোগ আসে আমার কাছে সেক্ষেত্রে আমি সরজমিনে যাই এবং ব্যাংকে দাখিল করা সকল কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হয় যে কারণে ঋণ প্রস্তাব টি স্থগিত করেছি।
Leave a Reply