অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন অলিউল্লাহ। রাজধানীর মিরপুর টোলার বাগ এলাকার এই আবাসন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি মিরপুর বাংলা কলেজের পাশে ডেল্টা মেডিকেল কলেজেরপিছনে টোলারবাগ এলাকায় নক্ষত্র নামে একটি বহুতল বিশিষ্ট বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করছেন। জানা গেছে এই অলিউল্লাহ ছিলেন গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একজন ঘোর দুর্নীতিবাজ। মিরপুর এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য আসলামুল হক এর সাথে সখ্যতা তৈরি করে অসংখ্য স্থানীয় লোকজনের জায়গা জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বহু সম্পদের মালিক হয়েছেন। কুয়াকাটা,আশুলিয়া, মিরপুরের টোলারবাগ, সহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তার নামে বেনামে বহু সম্পত্তি। অলিউলার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর মতলব এলাকার ঘাটাইল মহিউদ্দিন খান আলমগীর এর বাড়ির পাশে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের নাম ভাঙ্গিয়ে সমিতি বানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অলিউল্লাহ দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। গত ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার বিক্ষোভের সময় এই অলিউল্লাহ নিজে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ছাত্রদের উপর ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। সেই সময়ে অলিউল্লাহর আক্রমণে অসংখ্য ছাত্র জনতা পঙ্গুত্ববরণ করে। অলিউল্লাহর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এর নামে গচ্ছিত আছে বিভিন্ন ব্যাংকে ডিপোজিট। শত শত ভরি স্বর্ণের গহনা। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৫ সালে অলিউল্লাহর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী আবুল বাসার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সেই সময়ে অলিউল্লার বিষয়ে তার কাছ থেকে উক্ত অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
এছাড়াও মিরপুর এলাকার একাধিক নির্যাতিত বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে জানা যায়, বিগত ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাচার সরকারের আমলে গ্রেফতার বাণিজ্যের মাধ্যমে এবং রাজনৈতিক হয়রানি করে ত্যাগী নেতা কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। শূন্য থেকে শত কোটি টাকার মালিক হতে গিয়ে হেন কোন অপকর্ম নেই যা এই অলিউল্লাহ করেনি। গত স্বৈরাচার সরকার পতনের পর বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান অলিউল্লাহ, পরবর্তীতে পুলিশি কার্যক্রমে ঢিলে ঢালার সুযোগ বুঝে আবারো এলাকায় প্রবেশ করেছে এই আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা। মিরপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল গুলোতে বর্তমানে অর্থায়ন করছে এই ব্যক্তি। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ভারতে পলাতক বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত নির্দেশনা পেয়ে থাকেন অলিউল্লাহ। সেই নির্দেশনা মোতাবেক গোপনে দলকে সংগঠিত করার কাজও করছেন তিনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে ১৬ বছর নানাভাবে অনিয়ম দুর্নীতি করে শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া অলিউল্লাহর অপকর্মের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরও তথ্য গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে পৌঁছেছে সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে বিস্তারিত পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply